শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০২:২৫ অপরাহ্ন

সিএনজি সিলিন্ডার দিয়ে রান্না করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৭

সময়ের কন্ঠ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জে সিএনজির সিলিন্ডার দিয়ে বাসায় রান্না করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্য দুজনের অবস্থা গুরুতর। সিএনজি সিলিন্ডারের পাইপ থেকে রান্নাঘরে আগুনের সূত্রপাত। গত রোববার রাতে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের দুখিয়াবাড়ী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিএনজি বা কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয় মূলত যানবাহনে জ্বালানির পরিবর্তে  আর রান্নার কাজে ব্যবহার হয় এলপিজি বা লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস। সিএনজি দিয়ে রান্না করতে গিয়েই মূলত এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের দুখিয়াবাড়ী গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ছানোয়ার মুন্সী (৫৫), ছানোয়ার মুন্সীর স্ত্রী নিলুফার খাতুন লিলি (৫০) তাদের ছেলে তায়েব আলী (২৭) ও সাইদুল ইসলাম (৩৫), সাইদুল ইসলামের স্ত্রী নাজিরা খাতুন (৩০), তাদের দুই বছরের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন ও ছানোয়ার মুন্সীর ভাতিজা মেহেদি হাসান (১৩)।

সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নবীদুল বণিক বার্তাকে বলেন, আগুন লাগার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। যেটা জানতে পেরেছি, তা হলো ছানোয়ার মুন্সীর দুই ছেলে সিএনজি চালায়। তারা সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডার রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য চুলার সঙ্গে সংযোগ দেয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মনজিল হক বণিক বার্তাকে বলেন, দুখিয়াবাড়ী গ্রামের ছানোয়ার মুন্সীর বাড়িতে রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার পাইপের চুলার দিকের অংশে ছিদ্র হয়ে আগুন ধরে যায়। এ সময় চুলা বিস্ফোরিত হয়ে রান্নাঘরে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন। দগ্ধ দুই নারী ও শিশুসহ সাতজনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকন উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, রোববার রাতে আগুনে দগ্ধ সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু সুমাইয়া খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীর অনেকটা ঝলসে গেছে। তাকে ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, দগ্ধদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত রোববার সাইদুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এখানে চিকিৎসারত তায়েব আলীর অবস্থাও খারাপের দিকে। তাকেও ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, দগ্ধদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।আরো একজনকে ঢাকায় পাঠানো হতে পারে। এছাড়া অন্যদের চিকিৎসা এখানেই সম্ভব হবে। তবে প্রয়োজন হলে ঢাকায় পাঠানো হবে।


© ২০১৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত সময়ের কন্ঠ লিঃ
কারিগরি সহায়তায় N Host BD