বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

এক্সট্রাকশন নিয়ে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : ২৪ এপ্রিল নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘এক্সট্রাকশন’। ঢাকার প্রেক্ষাপটে গল্প হওয়ায় ওয়েব ছবিটি নিয়ে এ দেশের দর্শকদের তুমুল আগ্রহ ছিল। কিন্তু ছবিটি দেখার পর বেশির ভাগই হতাশ। বিশেষ করে পুরো সিনেমায় যেভাবে ঢাকাকে দেখানো হয়েছে সেটা নিয়েই সবার আপত্তি। মুক্তির পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সিনেমা গ্রুপে এক শরও বেশি দর্শক সিনেমাটির সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছে। তাওসিফ তান লিখেছেন, ‘ডিটেলিং বা ছোট জিনিস ঠিকঠাকমতো করলে মুভির সৌন্দর্য দ্বিগুণ হয়ে যায়! এই মুভিটা আমার কাছে এই জায়গাতেই মাইর খেয়ে গেছে। বাংলাদেশি ড্রাগলর্ড এমন বাংলায় কথা বলবে যেন সে আফগানিস্তান থেকে দুই দিন আগেই বাংলাদেশে এসেছে। পুলিশের গাড়ি, র‌্যাবের ইউনিফর্মের ওপর লেখাগুলো দেখেছেন? জাস্ট অভ্র কি-বোর্ড দিয়ে কয়টা বাংলা শব্দ লিখে সেগুলো এনলার্জ করে সেঁটে দিছে!’

নাজমুল নয়ন নামের এক চলচ্চিত্র শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আর কী কইতাম, দেশের নামে পুলিশ, আর্মি, র‌্যাব সব লেজে-গোবরে এক কইরা দিছে। আর সেকি বাংলা ডায়ালগ! একটা শহরের ইন্টারপ্রিটেশন, স্থানীয় ভাষায় প্রয়োগ দেখার জঘন্য অভিজ্ঞতা।’

‘এক্সট্রাকশন’ নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়েছেন দেশের নির্মাতারাও। মাবরুর রশিদ বান্নাহ লিখেছেন, “ঢাকা নামটা সময়মতো না বদলাইলে ‘এক্সট্রাকশন’-এর হলিউড আর বাজে ইন্ডিয়ান টিমের কপালে আরো খারাপই আছিলো…এরপর এলে আরেকটু বেশি রিসার্চ করে আইসেন ভাইয়েরা…কারো গুষ্টি উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে না…শুনলাম সিক্যুয়েল হতে পারে, তাই পরেরবার যাতে কারো জান রক্ষা পায় সেই লক্ষ্যেই এই লেখাটা দেওয়া।”

গায়ক-অভিনেতা জন কবির অবশ্য খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করে লিখেছেন, “ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখা জাতি যখন ‘এক্সট্রাকশন’ ভালো হয় নাই বলে স্ট্যাটাস দেয়…।”

অভিনেতা রওনক হাসান মজা করে লিখেছেন, ‘ছবিটা ফাইন লাগিছে। একশন সিন দেইখে পয়সা উসুল। গল্পটা সিরাম। কিন্তু এ জো রুশো বেটা এ কিরাম চিরিত্রনাইট্য লিখলো বুঝতি পারলাম না। বুড়িগঙ্গার তীরে ইরাম ঘন জঙ্গলটা কোন দিকে কেউ বলতি পারেন ভাই? তালিপারে লকডাউন তুইলে দিলে এট্টু ঘুরতি যাতাম। তবে ভাই একশন সিন কিন্তু সিরাম হইছে। আমাগের বাংলাদেশি রোলে যারা পাট করিছে তাগের বাংলা কিন্তু ফাইন হয়েছে। আচ্ছা, এইটে কুন জাগার সিনেমা ভাই? হলি? বলি? নাকি ঢালি? বুজার পারলাম না। তয় একশন সিন সিনারি কলাম সিরাম হইছে। ছবি হিট খাবি।’

তরুণ নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন অবশ্য মনে করেন, ঢাকাকে ঠিকভাবে পর্দায় দেখতে হলে ভরসা রাখতে হবে দেশি নির্মাতাদের প্রতিই, “যদি ঢাকা/বাংলাদেশের ভালোভাবে মিডিয়ায় দেখতে চান তাহলে দেশীয় সংস্কৃতিকে সহায়তা করুন। হলিউড আপনার গল্পকে ঠিকভাবে তুলে ধরবে না। ঢাকা নিয়ে আমাদের ছবি ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ও এখন নেটফ্লিক্সে আছে, যার বাজেট ‘এক্সট্রাকশন’-এর অর্ধেকেরও কম। কিন্তু সেটা আমাদের গল্প, তাদের নয়।” ভিএফএক্স আর্টিস্ট ওয়াহিদ ইবনে পরজা এই ছবির ভাষা অনুবাদকের কাজ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘পরেরবার আরো ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।’


মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ
© ২০১৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত সময়ের কন্ঠ লিঃ
কারিগরি সহায়তায় N Host BD