শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ৪৩ লাখ ছাড়ালো মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজারের বেশি

ডেস্ক রিপোর্ট : মহামারি করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৪৩ লাখ ছাড়িয়েছে, মারা গেছে ২ লাখ ৯৩ হাজারের বেশি।  আর সুস্থ হয়েছে ১৬ লাখ।
মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৫ হাজার ৩৩৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৬ লাখ ২ হাজার ৯১ জন। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮০৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৫ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৫ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৬ হাজার ৩৪০ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।
দেশ      মোট মৃতের সংখ্যা       মোট আক্রান্ত
যুক্তরাষ্ট্র    ৮৩ হাজার ৪২৫ জন    ১৪ লাখ ৮ হাজার ৬৩৬ জন
স্পেন     ২৬ হাজার ৯২০ জন     ৮৩ হাজার ৪২৫ জন
রাশিয়া     ২ হাজার ১১৬ জন    ২ লাখ ৩২ হাজার ২৪৩
ফ্রান্স     ২৬ হাজার ৯৯১ জন    ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২৫
যুক্তরাজ্য     ৩২ হাজার ৬৯২ জন    ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৩
ইতালি    ৩০ হাজার ৯১১ জন    ২ লাখ ২১ হাজার ২১৬
ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৪ লাখ ৮ হাজার ৬৩৬, সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৬, মারা গেছে ৮৩ হাজার ৪২৫ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।
আর যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- স্পেনে আক্রান্ত ছ ৮৩ হাজার ৪২৫ জন সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৭০, মারা গেছে ২৬ হাজার ৯২০ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ২ লাখ ৩২ হাজার ২৪৩, সুস্থ হয়েছে ৪৩ হাজার ৫১২, মারা গেছে ২ হাজার ১১৬ জন। ইংল্যান্ডে আক্রান্ত ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৩, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৩২ হাজার ৬৯২ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ২১ হাজার ২১৬, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৯, মারা গেছে ৩০ হাজার ৯১১ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২৫, সুস্থ হয়েছে ৫৭ হাজার ৭৮৫, মারা গেছে ২৬ হাজার ৯৯১ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬০২, সুস্থ হয়েছে ৭২ হাজার ৫৯৭, মারা গেছে ১২ হাজার ৪০৪ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০০, মারা গেছে ৭ হাজার ৭৩৮ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৫, সুস্থ হয়েছে ৯৮ হাজার ৮৮৯, মারা গেছে ৩ হাজার ৮৯৪ জন। ইরানে আক্রান্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৭৬৭, সুস্থ হয়েছে ৮৮ হাজার ৩৫৭, মারা গেছে ৬ হাজার ৭৩৩ জন।
এ দিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৯২৬, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ১৮৯, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৩ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৭২ হাজার ৫৯, সুস্থ হয়েছে ২৩ হাজার ৩২৪, মারা গেছে ২ হাজার ৫৭ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৭১ হাজার ১৫৭, সুস্থ হয়েছে ৩৪ হাজার ৪২, মারা গেছে ৫ হাজার ১৬৯ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫৩ হাজার ৭৭৯, সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩২, মারা গেছে ৮ হাজার ৭৬১ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪২ হাজার ৯৮৪, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৫ হাজার ৫১০ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ৩৮ হাজার ৩২৪, সুস্থ হয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৫, মারা গেছে ৩ হাজার ৯২৬ জন।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৪১৯, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৩, মারা গেছে ২ হাজার ৩২৭ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৩৮০, সুস্থ হয়েছে ২৬ হাজার ৮০০, মারা গেছে ১ হাজার ৮৬৭ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ২৭ হাজার ৯১৩, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ১৩, মারা গেছে ১ হাজার ১৬৩ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ২৭ হাজার ২৭২, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১, মারা গেছে ৩ হাজার ৩১৩ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৩ হাজার ২৪২, সুস্থ হয়েছে ১৭ হাজার ১১০, মারা গেছে ১ হাজার ৪৮৮ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত ১৫ হাজার ৭৭৮, সুস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৬৮৫, মারা গেছে ১ হাজার ২ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ১৪ হাজার ৭৪৯, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৬৩, মারা গেছে ১ হাজার ৭ জন।
এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ৭৪ হাজার ২৯২, সুস্থ হয়েছে ২৪ হাজার ৪২০, মারা গেছে ২ হাজার ৪১৫ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৩২ হাজার ৬৭৪, সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৫৫৫, মারা গেছে ৭২৪ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ১৬ হাজার ৬৬০, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ১৪৭, মারা গেছে ২৫০ জন।
প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং হঠাৎ করে স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। আক্রান্ত ৪৩ লাখ ছাড়িয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখের বেশি মানুষ। দেশটিতে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৮৩ হাজার। একদিনে প্রাণ গেছে ১,৬৩০ জনের। বিশ্বে সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি মানুষ।
আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের পরই এখন রাশিয়ার অবস্থান। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২ হাজার। গত ১০ দিনে প্রতিদিনই ১০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন দেশটিতে।
করোনভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দৈনিক বৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে ব্রাজিলে, জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার তারা ৮৮১টি নতুন মৃত্যু রেকর্ড করেছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এতে ব্রাজিলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার ৪৬১ জনে দাঁড়িয়েছে।
এর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে থাকা দেশটি কোভিড-১৯ এ তালিকাবদ্ধ হওয়া মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বের ষষ্ঠ শীর্ষস্থানীয় দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি। তারপরও দেশটি করোনভাইরাস পরীক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাও পাওলো মেডিকেল স্কুলের ডমিঙ্গো আলভেস বলেছেন, “ব্রাজিলে শুধু হাসপাতালে আসা লোকজনেরই পরীক্ষা হয়। তাই প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসলে কী হচ্ছে তা জানা সত্যিই কঠিন। এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাস্তব কোনো নীতি আমাদের নেই।”সম্প্রতি এক সমীক্ষায় ব্রাজিলে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের ১৫ গুণ বলে হিসাব করা হয়েছে। ডমিঙ্গো আলভেস এই সমীক্ষক দলের অন্যতম সদস্য। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়া করেনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ২১৪ জন।
মঙ্গলবার সেখানে নতুন করে আরও ৯ হাজার জনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তালিকায় নতুন এসব আক্রান্ত যুক্ত হওয়ায় জার্মানিকে পেছনে ঠেলে আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের সপ্তম শীর্ষস্থানীয় দেশ হয়েছে ব্রাজিল। শুধু পশ্চিম গোলার্ধ বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের পরই আছে ব্রাজিল। আমেরিকা মহাদেশ এখন মহামারীর নতুন উপকেন্দ্র হয়ে উঠেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে।  আসছে সপ্তাহগুলোতে দেশটিতে প্রাদুর্ভাবের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মহামারীর চাপে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, এমন শঙ্কাও বিরাজ করছে।
সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ঈদের সময়ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে চলতি মাসের শেষের দিকে পাঁচ দিনের ঈদের ছুটিতে দেশব্যাপী পুরোটা সময় কারফিউ জারি করা হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ সৌদি আরব। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী পুরোপুরি লকডাউন আরোপ করা হবে। পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদ এ সময়ের মধ্যেই পড়ছে।
দেশটিতে মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় বেশির ভাগ অঞ্চল পূর্ণ লকডাউনের আওতায় চলে গিয়েছিল। গত মাস থেকে সরকার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করে।
দেশটিতে শপিং মল ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকান খুলে রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও মক্কার মতো শহর বন্ধ রাখা হয়েছে। কঠোর লকডাউনের মধ্যেও কিছু কিছু জায়গায় সংক্রমণ বাড়ছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, দেশটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে ২৬৪ জন মারা গেছেন। করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৫ জন। সেরে উঠেছেন ১৫ হাজার ২৫৭ জন।
মার্চে ওমরাহ বাতিল করে সৌদি আরব। চলতি বছরের হজ প্রক্রিয়া চালু করা হবে কি না, এর ঘোষণা এখনো দেয়নি কর্তৃপক্ষ। গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫ লাখ মানুষ সৌদি আরবে হজ পালন করতে যান। দেশটিতে ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে সিনেমা, রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি আকাশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাদশা সালমান সতর্ক করে বলেছেন, কোভিড-১৯–এর বিরুদ্ধে সামনে কঠিন লড়াই করতে হবে। দেশটিকে ভাইরাসের কারণে ব্যবসা–বাণিজ্য বন্ধ ও তেলের দামে ধসের কারণে দুই দিক থেকে ধাক্কা খেতে হতে পারে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমায় লকডাউন অথবা বিধিনিষেধ শিথিল করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানি। এর ফলে দেশগুলোতে নতুন করে সংক্রমণের হার বেড়েছে। বিধিনিষেধের শর্ত শিথিল করায় ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে করোনাভাইরাসে গুচ্ছ (ক্লাস্টার) সংক্রমণ ধরা পড়ে। এতে দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো সংক্রমণের ঢেউ শুরু হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়। এই অবস্থায় গত রোববার দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন সতর্ক করে বলেন, এটা (করোনা) শেষ না হওয়া পর্যন্ত শেষ বলা যাবে না। প্রথম দিকে যেসব দেশে এই মহামারি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে, সেগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া একটি। কিন্তু ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করে মহামারি ঠেকাতে দারুণ সফল দক্ষিণ কোরিয়া। মহামারি প্রতিরোধে দেশটির মডেল সারা বিশ্বের বহুল প্রশংসিতও। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ কিছু শর্ত রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করে দেশটি। এখন দেশটিতে নতুন করে ক্লাস্টার সংক্রমণ ধরা পড়ায় মুন জনগণকে সতর্ক করেন, মহামারি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সুরক্ষার বিষয়ে কোনোভাবেই গড়িমসি করা যাবে না।
দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বলেছে, প্রতিরোধব্যবস্থা শিথিলের সময় এখনো আসেনি। চীন সংক্রমণ একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু গত সোমবার দেশটিতে নতুন করে ১৭ জন সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র উহান শহরে পাঁচজন সংক্রমিত হন। উহানে নতুন ক্লাস্টার সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। আর রাশিয়ার সীমান্তবর্তী জিলিন প্রদেশের শুলান শহরে নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় শহরটি লকডাউন করা হয়েছে।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মুখপাত্র মি ফেং বলেন, স্থানীয় ক্লাস্টার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় এটাই প্রতীয়মান হয়েছে, প্রতিরোধব্যবস্থা শিথিলের সময় এখনো আসেনি।
মহাদেশ হিসেবে মহামারির সবচেয়ে খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয় ইউরোপে। তবে অন্য দেশের তুলনায় জার্মানি বেশ ভালোভাবে এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। তবে সংক্রমণ কমে আসায় দেশটি শিথিল করতে শুরু করে বিধিনিষেধের শর্ত। এর ফলে বেড়েছে সংক্রমণ। সোমবার জার্মানির রোগনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট বলেছে, গত দুই দিনে নতুন করে সংক্রমণের লেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী।


মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ
© ২০১৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত সময়ের কন্ঠ লিঃ
কারিগরি সহায়তায় N Host BD